সারাদেশে বইছে তীব্র দাবদাহ। তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘর ছাড়িয়ে যাওয়ায় জনজীবনে নাভিশ্বাস উঠছে। তবে এই অতিরিক্ত গরম কেবল অস্বস্তিই বাড়াচ্ছে না, আপনার অজান্তেই শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ কিডনিকে ফেলছে চরম ঝুঁকিতে। সম্প্রতি স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, তীব্র গরমে পানিশূন্যতা ও অযত্নের কারণে কিডনিতে পাথর হওয়া, কিডনি বিকলসহ নানা জটিলতা দেখা দিচ্ছে।
বিপদ কেন বাড়ছে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে গেলে শরীর অতিরিক্ত ঘামতে শুরু করে। এতে শরীরের প্রয়োজনীয় তরল বেরিয়ে যায় এবং কিডনিকে রক্ত পরিশোধনে বাড়তি পরিশ্রম করতে হয়। পানিশূন্যতার ফলে প্রস্রাবে ক্যালসিয়াম, অক্সালেট ও ইউরিক অ্যাসিডের ঘনত্ব বেড়ে গিয়ে তা ধীরে ধীরে শক্ত দানায় পরিণত হয়, যাকে আমরা ‘কিডনি পাথর’ বলি।
ভুল পদ্ধতিতে পানি পান ও কোমল পানীয়ের ঝুঁকি
অনেকে গরমে তৃষ্ণা মেটাতে একবারে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করেন। চিকিৎসকরা বলছেন, অল্প সময়ে অতিরিক্ত পানি রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা কমিয়ে দিতে পারে, যার ফলে মাথা ঘোরা বা ক্লান্তি দেখা দেয়। এছাড়া মাত্রাতিরিক্ত সফট ড্রিংকস বা এনার্জি ড্রিংকস পান করা কিডনির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করে পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলে।
সতর্ক সংকেত: যে লক্ষণগুলো এড়িয়ে যাবেন না
কিডনি কোনো চাপে আছে কি না, তা বুঝতে নিজের শরীরের কিছু পরিবর্তনের দিকে নজর দিন:
• প্রস্রাব অত্যন্ত ঘন, গাঢ় রঙের বা দুর্গন্ধযুক্ত হওয়া।
• প্রস্রাবের পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কমে যাওয়া।
• প্রস্রাব করার সময় জ্বালাপোড়া বা অস্বস্তি।
• অত্যধিক ক্লান্তি, মাথাব্যথা বা পিঠের নিচে ব্যথা।
১. ধীরে পানি পান: একবারে অনেকটা পানি না খেয়ে সারাদিন বিরতি দিয়ে পানি পান করুন। তৃষ্ণা পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করবেন না।
২. প্রাকৃতিক খাবার: শরীর হাইড্রেটেড রাখতে তরমুজ, শসা ও প্রচুর শাকসবজি খান।
৩. ইলেক্ট্রোলাইট ব্যালেন্স: যারা কায়িক পরিশ্রম করেন তারা সাধারণ পানির পাশাপাশি সামান্য লবণ-চিনির শরবত বা ডাবের পানি খেতে পারেন।
৪. তাপমাত্রা পরিবর্তন: প্রচণ্ড রোদ থেকে এসেই হঠাৎ ঠান্ডা পানিতে গোসল বা এসি রুমে ঢোকা থেকে বিরত থাকুন। শরীরকে মানিয়ে নেওয়ার সময় দিন।
৫. সফট ড্রিংকস বর্জন: চিনিযুক্ত পানীয়র বদলে লেবুর শরবত বা সাধারণ পানিই সেরা।
চিকিৎসকদের মতে, সচেতনতাই কিডনি রোগের প্রধান প্রতিরোধ। প্রস্রাবের ধরনে কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
